ads

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকের আঙ্গিক বিচার

 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকের আঙ্গিক বিচার

বাংলা কথাসাহিত্য ও নাট্যজগতে এক প্রথাবিরোধী, মননশীল ও অনন্য শিল্পদৃষ্টিসম্পন্ন নাট্যব্যক্তিত্ব হলেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)। তিনি তাঁর অসাধারণ সমাজসচেতনতা ও সুগভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলা নাট্যসাহিত্যের সীমানাকে আন্তর্জাতিক আধুনিকতার স্তরে উন্নীত করেছেন। গতানুগতিক নাট্যরীতির বাইরে গিয়ে মানুষের অস্তিত্বের তীব্র সংকট, নৈতিক অবক্ষয় এবং শোষক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর নাটকগুলো এক গভীর নান্দনিক ও শৈল্পিক প্রতিবাদ গড়ে তোলে। তাঁর রচিত নিরীক্ষাধর্মী নাটক তরঙ্গভঙ্গ (১৯৬৫) বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে আঙ্গিক এবং বিষয়গত বৈচিত্র্যের এক অত্যুজ্জ্বল ও বৈপ্লবিক মাইলফলক। চরম এক মানবীয় ট্র্যাজেডির অন্তরালে আমাদের বিচার ব্যবস্থার নৈতিক অসারতাকে এক অভিনব নাট্যকাঠামোয় নাট্যকার এই সৃষ্টিতে মূর্ত করে তুলেছেন।

কাহিনী বিন্যাস ও দৃশ্যসজ্জার অভিনবত্ব

'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকের কাহিনী বিন্যাস কোনো সরলরৈখিক গতি অনুসরণ করে না, বরং তা একটি জটিল ও দ্বান্দ্বিক মনস্তাত্ত্বিক আবহে আবর্তিত হয়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চরম কষাঘাতে জর্জরিত এক অসহায় নারী আমেনার জোড়া খুনের বিচারকে কেন্দ্র করে নাটকের মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে। নাট্যকার নাটকের শুরুতেই মঞ্চের যে সুনির্দিষ্ট দৃশ্যসজ্জা ও কাঠামোগত রূপরেখা নির্দেশ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রতীকী এবং নাটকের অন্তর্নিহিত সুরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নাটকের প্রারম্ভিক দৃশ্যসজ্জার বিবরণে নাট্যকার লিখেছেন:

"মঞ্চের ডান দিকে দুই ফুট উঁচু কাঠের রেলিং-ঘেরা পাটাতনের উপর বিচারকের চেয়ার-টেবিল... কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামী আমেনা।" (তরঙ্গভঙ্গ)

এই চমৎকার মঞ্চনির্দেশনাটি কেবল নাটকের বাহ্যিক পরিবেশ তৈরির প্রয়াস নয়, বরং তা আমাদের প্রচলিত সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার নিষ্ঠুর ক্ষমতা কাঠামোর এক নিখুঁত রূপক। বিচারকের বসার স্থানটি সাধারণ মানুষের ভূমি থেকে দুই ফুট উঁচুতে স্থাপন করার মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার কৃত্রিম আভিজাত্য, দূরত্ব ও ক্ষমতার অহংকারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ আমেনা হলো শোষিত ও ভাগ্যাহত সর্বহারা সাধারণ মানুষের প্রতীক। জীবনের বাস্তবতায় এই দৃশ্য আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, যেখানে মানুষের তীব্র ক্ষুধার হাহাকার চলে, সেখানে ক্ষমতার উচ্চ বেদীতে বসে আইন কীভাবে এক নির্লিপ্ত ও যান্ত্রিক উপায়ে বিচার কার্য পরিচালনা করে।

অ্যাবসার্ড নাট্যরীতি ও আদালতের প্রতীকী রূপক

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এই নাটকে পশ্চিমা ‘অ্যাবসার্ড থিয়েটার’ বা পরাবাস্তব নাট্যরীতির প্রভাবকে অত্যন্ত সার্থকভাবে দেশীয় নাট্য-ঐতিহ্যের উপযোগী করে তুলেছেন। নাটকের প্রথমাংশে আদালতের যে বিশৃঙ্খল চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বিচার ব্যবস্থার গাম্ভীর্যকে ব্যঙ্গ করে এক অদ্ভুত প্রহসনে পরিণত হয়। জজসাহেবের ঘুমন্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা, এজলাসের ভেতরে পুলিশ-কেরানির ধূমপান ও সিটি বাজানো, এবং আদালতের ঠিক মাঝখানে হকারের বই বিক্রির চিৎকার—সবকিছু মিলে এক চূড়ান্ত উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

যে বিচারালয় মানুষের জীবন-মৃত্যুর ফয়সালা করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান, তা যখন অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর পবিত্র উপাসনালয় থাকে না, বরং মানুষের ভাগ্য কেনাবেচার এক তুচ্ছ হাটে পরিণত হয়। জীবনমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রমাণ করে যে, সমাজে যখন মানবিক মূল্যবোধ ও সহানুভূতির আকাল পড়ে, তখন আইনি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল একটি প্রাণহীন যান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক কৌতুকের বিষয়ে পরিণত হয়।

পুথিপাঠ ও লোকজ নাট্যরীতির সার্থক মেলবন্ধন

নাটকের আঙ্গিক বিচারে সবচেয়ে কালজয়ী ও বৈপ্লবিক সংযোজন হলো আধুনিক নাট্যকাঠামোর ভেতরে আমাদের ঐতিহ্যবাহী লোকজ পুথিপাঠের সুর ও আঙ্গিক প্রয়োগ। নাটকের প্ররোচনাকারী এবং প্রধান মামলাকারী চরিত্র আবদুস সাত্তার নেওলাপুরী সুর করে পুথি পড়ার মাধ্যমে আমেনার চরম দুঃখজনক অপরাধের ঘটনাটি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে। এই কৌশলটি নাটকে কেবল লোকজ আবহ তৈরি করে না, বরং দর্শক ও নাটকের চরিত্রের মধ্যে একটি মহাকাব্যিক দূরত্ব বা 'এলিয়েনেশন এফেক্ট' সৃষ্টি করে, যা দর্শককে আবেগে না ভাসিয়ে বিচারবুদ্ধিকে সজাগ রাখে। যেমন পুথির প্রথম অংশের বয়ান:

"শোন ভাই, শোন সবে, শোন মন দিয়া /

শুনিলে কাঁদিবে সবাই, কাঁপিবে হিয়া /

খোদা আছে রূপ আছে আছে আপনজন /

তবু না মানে নারীর কঠিন পরাণ /

নিজহাত বধিল সে আপন সন্তান ॥" (তরঙ্গভঙ্গ)

পুথির এই চমৎকার কাব্যিক ছন্দ মূলত বিচারহীন সমাজের একপেশে ও অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গির এক শৈল্পিক প্রকাশ। সমাজ কেবল আমেনার সন্তান হত্যারূপী অপরাধের বাহ্যিক দিকটি দেখে শিউরে ওঠে, কিন্তু যে ক্ষুধার তীব্র জ্বালা একজন মাতৃত্বের চরম মহিমাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে নিজের সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করতে বাধ্য করে, সেই নেপথ্য কারণটিকে সমাজ আড়াল করে দেয়। জীবনমুখী সত্য এটাই যে, সমাজ অধিকাংশ সময়ে ব্যক্তির গভীর ট্র্যাজেডি ও হাহাকারকে নিজের বিনোদনের পুথিসুরে রূপান্তরিত করে উপভোগ করে, কিন্তু অপরাধের মূলে থাকা সামাজিক বৈষম্য ও ক্ষুধা দূর করতে কোনো ভূমিকা নেয় না।

এই সুরের ধারা নাটকের পরবর্তী অংশেও প্রবাহিত হয়, যেখানে স্বামীর অসহ্য রোগযন্ত্রণা দূর করার উদ্দেশ্যে আমেনার ধুতুরা বিষ প্রয়োগের ঘটনা পুথির ছন্দে বর্ণিত হয়েছে:

"দিলজবা বুকের জেওর, আসল জবা রক্তময় /

হামান-দিস্তায় নারীর হাত, ধুতুরা পাতা বিষময়।" (তরঙ্গভঙ্গ)

এই পঙ্ক্তিটি চরম দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাত এবং মানবজীবনের অসহায়ত্বের এক বীভৎস বাস্তবতাকে চিত্রিত করে। স্বামীর দূরারোগ্য ব্যাধি ও তীব্র ছটফটানি দেখে ওষুধ কেনার সামর্থ্যহীন আমেনা যখন স্বামীর কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে ধুতুরার বিষাক্ত রস তৈরি করে, তখন সেই হাতের বিষাক্ততা আসলে সমাজেরই নিষ্ঠুরতার প্রতীক হয়ে ওঠে। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় যখন ভালোবাসার হাতই চরম অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়ে বিষের হামান-দিস্তা তুলে নেয়, তখন তা আর একক ব্যক্তির অপরাধ থাকে না, বরং তা মানব সভ্যতার নৈতিক পরাজয় ও গভীরতম সামাজিক ট্র্যাজেডিকে নির্দেশ করে।

চরিত্র রূপায়ণ ও সংলাপে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা

ওয়ালীউল্লাহর নাট্যশৈলীর অন্যতম প্রধান আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত সুনির্বাচিত ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংলাপের ব্যবহার। বিশেষ করে জজসাহেবের চরিত্রটি প্রচলিত আইন ও নিজস্ব বিবেকের দ্বন্দ্বে ক্রমাগত ক্ষতবিক্ষত এক মানুষ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। দেড় মাস ধরে আমেনার মামলার বিচার করতে গিয়ে তিনি সমাজের মুখোশধারী প্রকৃত অপরাধীদের চিনতে পারেন এবং তাঁর নিজের বিচার ব্যবস্থার অসারতা গভীরভাবে অনুভব করেন। জজ সাহেবের মনোজাগতিক রূপান্তর ও সত্যের উপলব্ধি তাঁর এই সংলাপে চমৎকারভাবে মূর্ত হয়েছে:

"কিন্তু সবটাই বাইরের আবরণ, সবটাই বাহ্যিক রূপ। বেশভূষা-চেহারায় কোন ভুল নেই..." (তরঙ্গভঙ্গ)

এই সুগভীর মনস্তাত্ত্বিক উক্তিটির মাধ্যমে মানুষের দ্বিমুখী সত্তা ও মুখোশধারী সমাজব্যবস্থার মূল স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। সমাজে যারা ধার্মিক, সৎ ও সভ্য সেজে ঘুরে বেড়ায়, তাদের ভেতরেই হয়তো লুকিয়ে থাকে আসল শোষক ও খুনি। আইন কেবল বাইরের রূপ এবং যান্ত্রিক প্রমাণ বিচার করে, কিন্তু মানুষের আত্মার গভীরের লুকানো অপরাধকে তা সনাক্ত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। জীবনমুখী সত্য এটাই যে, বাহ্যিক সুন্দর অবয়বের নিচে যখন সামাজিক অন্যায় ঢাকা থাকে, তখন যান্ত্রিক আইন কেবল নীরব দর্শক হয়ে অপরাধকে আশ্রয় দেয়।

রায় দেওয়ার পূর্বে জজসাহেবের এই মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণার দ্বন্দ্ব যখন চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়, তখন তিনি প্রথাগত আইনের যান্ত্রিক বিচারক থেকে এক মুক্ত বিবেকের অধিকারী মানুষে রূপান্তরিত হন। তাঁর এই সুগভীর আত্মদহন ব্যক্ত হয়েছে এই সংলাপে:

"আমিও অনেক জীবন-মৃত্যুর ব্যাপারে স্বাক্ষর দিয়েছি। আমারও হাত কাঁপেনি।" (তরঙ্গভঙ্গ)

এই সংলাপে জজসাহেবের পেশাগত নির্লিপ্ততা ও নবজাগ্রত মানবিক চেতনার তীব্র সংঘাত প্রকাশিত হয়েছে। এতদিন জজসাহেব আইনের অন্ধ ভৃত্য হিসেবে বহু অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডে নির্দ্বিধায় স্বাক্ষর করেছেন, কারণ তখন তাঁর নৈতিক বিবেক ছিল সম্পূর্ণ সুপ্ত। কিন্তু আমেনার ক্ষুধার্ত সন্তানদের করুণ মৃত্যু ও সমাজপতিদের ষড়যন্ত্র যখন তাঁর চোখ খুলে দেয়, তখন তিনি আর সেই ঠান্ডা মাথায় মৃত্যুদণ্ডের ফয়সালা করতে পারেন না। জীবনের নির্মম সত্য এটাই যে, মানুষের বিবেক যখন একবার সত্যের আলোয় জাগ্রত হয়, তখন যান্ত্রিক নিয়মের শৃঙ্খল তাকে এক অসহ্য যন্ত্রণায় পিষে ফেলে, যা জীবনের অস্তিত্বকেই সংকটাপন্ন করে তোলে।

বৃত্তাকার নাট্যকাঠামো ও চূড়ান্ত ট্র্যাজিক সমাপ্তি

নাটকটির চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স এবং বৃত্তাকার নাট্যকাঠামো এর আঙ্গিকগত পূর্ণতাকে প্রকাশ করে। শেষ দৃশ্যের মঞ্চসজ্জা প্রথম দৃশ্যের অবিকল অনুকরণ হলেও, চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটনার শেষভাগকে এক ভয়াবহ ও ট্র্যাজিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। সত্য ও বিবেকের সংঘাত সহ্য করতে না পেরে রায় দেওয়ার পূর্বেই জজসাহেব আদালতের ছাদ থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেন, যা নাটকের যবনিকাপাতকে এক চরম প্রতীকী মাত্রা দান করে। জজ সাহেবের এই চূড়ান্ত ট্র্যাজিক পরিণতির সংবাদটি নাটকের সমাপ্তিতে উচ্চারিত হয়:

"ছাদ থেকে জজের দেহ দড়িতে ঝুলেছে দেখলে তো?" (তরঙ্গভঙ্গ)

জজসাহেবের এই আত্মহত্যা কেবল একজন ব্যক্তির জীবনের অবসান নয়, বরং তা প্রচলিত যান্ত্রিক ও শোষণমূলক বিচার ব্যবস্থার আত্মবিনাশের এক চূড়ান্ত প্রতীক। যে বিচারক রায় দেওয়ার ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, সমাজের কাঠামোগত অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসহায় হয়ে তাঁর এই আত্মহনন আসলে গোটা সমাজব্যবস্থার মুখে এক সজোরে চপেটাঘাত। জীবনের বাস্তবতায় এটি দেখায় যে, বিবেকবান মানুষ যখন অন্যায়ের বিপুল তরঙ্গের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নিরুপায় আবিষ্কার করে, তখন তার নিজের তরঙ্গই ভেঙে পড়ে চরম শূন্যতায়। আর জজের মৃত্যুর পর আমেনাকে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হত্যা করার মধ্য দিয়ে নাট্যকার দেখিয়েছেন যে, সমাজে অন্ধ হিংস্রতা ও অন্যায়ের যে নিষ্ঠুর তরঙ্গ প্রবাহিত হচ্ছে, তা জজসাহেবের আত্মত্যাগের পরও অপরিবর্তিতই থেকে যায়।

পরিশেষে বলা যায়, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটি কেবল তার বিষয়বস্তুর গভীরতায় নয়, বরং আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী লোকজ আঙ্গিকের সার্থক মেলবন্ধনের কারণেও বাংলা নাট্যসাহিত্যের একটি অনন্য মাইলফলক। নাট্যকাঠামোয় পুথিপাঠের মহাকাব্যিক ব্যবহার, অ্যাবসার্ড নাট্যরীতির দক্ষ প্রয়োগ, গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংলাপ এবং নাটকীয় বৃত্তাকার গঠনের সুনিপুণ সমন্বয় নাটকটিকে এক অনন্য শৈল্পিক উচ্চতা দান করেছে। নাট্যকার অত্যন্ত সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, জীবনের গভীরতম ট্র্যাজেডিকে চিত্রিত করার জন্য নাটকের আঙ্গিককেও কতখানি সৃজনশীল ও শক্তিশালী হতে হয়। 'তরঙ্গভঙ্গ'-এর এই শিল্পিত আঙ্গিক কেবল আমাদের নান্দনিক আনন্দই দেয় না, বরং জীবনের গভীরতম নৈতিক সংকট ও সমাজভাবনা নিয়ে প্রতিনিয়ত এক দ্বন্দ্বের সম্মুখীন করে তোলে।

S M A Hanif
BA (Hon's), MA
Bengali Language and Literature

No comments

"আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখে জানান। আপনার যেকোনো পরামর্শ সাদরে গৃহীত।"

Theme images by Maliketh. Powered by Blogger.