ads

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে অরণ্যে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাপনের চিত্র

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে অরণ্যে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাপনের চিত্র

বাংলা সাহিত্যের অনন্য রূপকার কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ – ১ নভেম্বর ১৯৫০) ছিলেন পল্লীবাংলার রূপময় প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের সহজাত জীবনবোধের এক দরদী সুরসাধক। তিনি গতানুগতিক সামাজিক জটিলতা কিংবা নাগরিক মনস্তত্ত্বের কৃত্রিমতাকে পাশ কাটিয়ে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রকৃতি ও মানবাত্মার নিবিড় একাত্মতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘অপরাজিত’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি যে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন, তারই এক পরিণত, অসামান্য ও মহাকাব্যিক প্রকাশ ঘটেছে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস আরণ্যক (১৯৩৯)-এ। 'আরণ্যক' কেবল কোনো ভৌগোলিক পটভূমির বর্ণনা নয়; এটি বিহারের বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহলের আদিম প্রকৃতি এবং সেখানে বসবাসকারী অত্যন্ত দরিদ্র, উপেক্ষিত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার এক পরম সত্য দলিল।

অরণ্য-পরিবেশ ও অরণ্যবাসীর জীবনচিত্রের ক্যানভাস

‘আরণ্যক’ উপন্যাসের ভৌগোলিক বিস্তার বিহারের ভাগলপুর ও পূর্ণিয়া জেলার আজমাবাদ, লবটুলিয়া বইহার, ফুলকিয়া বইহার, লছমনিয়া এবং মহালিখারূপের সুবিশাল অরণ্যভূমিজুড়ে। এই ১০-১২ হাজার বিঘা বিস্তৃত কুমারী জঙ্গলমহলে বাস করে শত শত হতভাগ্য, ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষ। নাগরিক সভ্যতার আলো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার স্পর্শ থেকে বহুদূরে অবস্থিত এই বনাঞ্চলে মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক দ্বিমুখী। এখানে প্রকৃতি একদিকে যেমন রূপময় ও মুক্ত স্বাধীনতার স্বাদ দেয়, অন্যদিকে তেমনি রুক্ষ, নির্মম ও ভয়ংকর।

অরণ্যের এই জীবনধারা কোনো একক বা সমজাতীয় জনগোষ্ঠীর নয়; বরং এখানে আদিবাসী সাঁওতাল, মুণ্ডা, স্থানীয় গাঙ্গোতা প্রজা, ভুঁইহার ব্রাহ্মণ, দরিদ্র কাঠুরে, রাখাল, গৃহহীন যাযাবর ও পথভ্রষ্ট লোকশিল্পীদের এক বিশাল ও বৈচিত্র্যময় মেলা বসেছে। আধুনিক শহরের চোখে এরা অনগ্রসর ও অসভ্য হলেও বিভূতিভূষণ এদের জীবনের গভীরে প্রবেশ করে ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের অপার সততা, আত্মমর্যাদা এবং টিকে থাকার অবর্ণনীয় সংগ্রাম।

ক্ষুধা, অনাহার ও খাদ্যসংগ্রামের নির্মম বাস্তবতা

'আরণ্যক' উপন্যাসে অরণ্যবাসীর জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় এবং করুণ বাস্তবতা হলো তাদের প্রতিদিনের খাদ্যসংগ্রাম। ভাত বা চালের মতো সাধারণ খাদ্যদ্রব্য এদের কাছে এক অলভ্য ও রাজকীয় বিলাসিতা। বছরের পর বছর চালের দানার মুখ না দেখেও এরা কাটিয়ে দেয়। মূলত কলাইয়ের ছাতু, চীনা ঘাসের দানা, মকাই বা ভুট্টা সেদ্ধ (যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘ঘাটো’ বলা হয়), জংলী বুড়মি ফল এবং নুন দিয়ে বুনো বাথুয়া শাক সেদ্ধ খেয়েই এদের জীবন ধারণ করতে হয়।

উপন্যাসের কথক তথা জমিদারি এস্টেটের ম্যানেজার সত্যচরণ যখন লবটুলিয়ার কাছারিতে প্রথম পদার্পণ করেন, তখন অরণ্যবাসীদের ভাত খাওয়ার আকুলতা দেখে চমকে যান। সেখানে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভাবের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে লেখক বর্ণনা করেছেন:

" এরা বড় গরিব; ভাত জিনিসটা খেতে পায় না। কলাইয়ের ছাতু, মকাইয়ের ছাতু, এই এরা বারোমাস খায়। ভাত খেতে পাওয়াটা এরা ভোজের সমান বিবেচনা করে।"

এই উক্তিটি অরণ্যবাসীদের চরম দারিদ্র্য ও খাদ্যাভাবের এক নগ্ন দলিল। সভ্য সমাজের মানুষ যেখানে ভাতকে নিত্যদিনের স্বাভাবিক আহার মনে করে, সেখানে অরণ্যের কোণে বাস করা এই সরল মানুষদের কাছে সামান্য একবেলা চালের ভাত পাওয়া মানে উৎসবে মেতে ওঠার সমান। ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতাই এই সমাজের মানুষের মূল নিয়তি।

প্রান্তিক চরিত্র ও জীবনসংগ্রামের বিচিত্র রূপায়ণ

অরণ্যে বসবাসকারী মানুষদের জীবন কোনো গতে বাঁধা ছাঁচে ঢালা নয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 'আরণ্যক'-এ এমন কতগুলো অসাধারণ চরিত্র সৃষ্টি করেছেন, যাদের মাধ্যমে অরণ্যবাসীদের জীবনযাপনের নানামুখী দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

ক. শিল্পতৃষ্ণা ও ক্ষুধার করুণ সংঘাত: নাটুয়া বালক ধাতুরিয়া

ধাতুরিয়া হলো অরণ্য অঞ্চলের এক কিশোর লোকশিল্পী বা নাচিয়ে। দক্ষিণ দেশে চরম দুর্ভিক্ষ ও অন্নকষ্ট দেখা দিলে সে পেটের খোরাকির সন্ধানে কাছারিতে এসে ছকুরবাতি নাচ দেখিয়ে বিনোদন জোগায়। শিল্পীর ভেতরের অফুরন্ত প্রণাচ্ছলতা সত্ত্বেও সামান্য চার আনা পয়সা এবং এক থালা 'ঘাটো' বা ভুট্টা সেদ্ধর লোভে সে রাতভর মেহনত করে। কোলকাতার মতো বড় শহরে গিয়ে নিজের নাচ দেখানোর এক অমলিন স্বপ্ন সে বুকে পুষে রেখেছিল। ধাতুরিয়ার জীবনযাপনের কষ্টের রূপ ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে লেখক লিখেছেন:

"শুধু দুটি খাইবার জন্য ছেলেটি দলের সঙ্গে ঘুরিতেছে। পয়সার ভাগ সে বড় একটা পায় না। তাও সে খাওয়া কি! চীনা ঘাসের দানা, আর নুন। বড় জোর তার সঙ্গে একটু তরকারি—আলুপটল নয়, জংলী বুড়মি ফল ভাজা, নয়তো বাথুয়া শাক সিদ্ধ, কিংবা ধুঁধুল ভাজা। এই খাইয়াই মুখে হাসি তার সর্বদা লাগিয়া আছে।"

এই বিবরণটি লোকশিল্পী ধাতুরিয়ার অভাবনীয় দারিদ্র্য এবং একই সাথে তার নিষ্পাপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পেটের ক্ষিধে মেটাতে পুষ্টিহীন বুনো ফল-শাক খেয়েও যে কিশোরটি মুখে হাসিখুশি ভাব ধরে রাখতে পারে, তার মাধ্যমে লেখক অরণ্যের মানুষের অমলিন জীবনতৃষ্ণাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

খ. নারীজীবনের করুণ ট্র্যাজেডি ও মর্যাদা রক্ষা: মুসম্মাত কুন্তা

এককালের বারাণসীর বাইজির কন্যা কুন্তা এক ধনাঢ্য রাজপুতকে বিয়ে করে অরণ্য অঞ্চলে এসেছিল। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর সে চরম নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সামাজিক অবহেলা, কুপ্রস্তাব ও লাঞ্ছনাকে পায়ে ঠেলে সে কেবল সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে মাঠের ধান কুড়িয়ে এবং বুনো ফল সংগ্রহ করে দিনপাত করে। শত অভাবের মাঝেও কুন্তা তার নারীসুলভ মর্যাদা ও সততা বিসর্জন দেয়নি। কুন্তার দারিদ্র্যের করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে সত্যচরণ দেখেছেন:

“কুন্তা…মুসম্মত কুন্তার কথা মনে হয়। এখনো যেন সুংঠিয়া বইহারের বিস্তীর্ণ বন্যকুলের জঙ্গলে সে দরিদ্র মেয়েটি তার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে লইয়া বন্যকুল সংগ্রহ করিয়া তাহার দৈনন্দিন সংসারযাত্রার ব্যবস্থায় ব্যস্ত।“

 অরণ্যের নিঃস্ব নারীদের বেঁচে থাকার নির্মম লড়াই এই উক্তিতে মূর্ত হয়েছে। আধুনিক সমাজের মতো এদের কোনো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই; বন থেকে ফলমূল কুড়িয়ে বা পরের ক্ষেতে খাটুনি খেটেই তাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

গ. নিঃস্বার্থ সেবা ও ঈশ্বরমুখী সরল জীবন: রাজু পাঁড়ে

রাজু পাঁড়ে একাধারে দরিদ্র ব্রাহ্মণ, কৃষক, কবি এবং ভেষজ কবিরাজ। সামান্য দু-বিঘা জমিতে চীনা ঘাস ও মকাই চাষ করে সে নির্জন কাশবনের মাঝে কুঁড়েঘর বানিয়ে বাস করে। কাচারির মুহুরি হওয়ার মতো সুযোগ থাকলেও সে জাগতিক উন্নতির পেছনে ছোটেনি। অরণ্যের ভেষজ লতাপাতা দিয়ে সে বিনা পয়সায় গ্রামের দরিদ্র ও মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা করে এবং অরণ্যের নির্জনতায় ঈশ্বরচিন্তায় নিমগ্ন থাকে।

" সত্যকার সাত্ত্বিক প্রকৃতির লোক রাজু। অন্য কোনো ফসল জন্মাইতে পারে নাই, চীনা ঘাসের দানা ছাড়া। সাত আট মাস হাসিমুখে তাই খাইয়াই চালাইতেছে। "

রাজু পাঁড়ে অরণ্যবাসীদের সহজাত সন্তুষ্টি ও আধিভৌতিক জীবনবোধের পরিচয় দেয়। বস্তুগত সম্পদ বা অঢেল অর্থের আশা না করেও প্রকৃতির নিভৃত কোণে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে কীভাবে শান্তিময় জীবন যাপন করা যায়, রাজু পাঁড়ে তারই মূর্ত প্রতীক।

মহাজনী শোষণ ও অত্যাচারী প্রথা

অরণ্যের সরল ও অজ্ঞ মানুষকে শোষণ করার জন্য সেখানে রাসবাসারী সিংহ এবং নন্দলাল ওঝার মতো কঠোর ও অত্যাচারী মহাজনেরা ওঁৎ পেতে থাকতো। চড়া সুদে টাকা বা শস্য ধার দিয়ে তারা দরিদ্র চাষীদের জমি ও ফসল গ্রাস করতো। কোনো প্রজা খাজনা দিতে না পারলে লাঠিয়াল পাঠিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। তবে এই শোষকদের বিপরীতে ধাওতাল সাহুর মতো বিরল ও নিঃস্বার্থ মহাজনও অরণ্যে ছিল, যে লাখপতি হওয়া সত্ত্বেও পরনে ময়লা চাদর জড়িয়ে ছাতু খেয়ে দিন কাটাত এবং কাউকে সুদের টাকার জন্য তাগাদা দিত না। ধাওতাল সাহুর চরম আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ঘটে এই উদ্ধৃতিতে:

"সবাই ফাঁকি দেয় না হুজুর। এখনও চন্দ্র-সূর্য উঠছে, মাথার উপর দিন-দুনিয়ার মালিক এখনও আছেন।"

মহাজনী পেশায় যুক্ত থেকেও ধাওতাল সাহুর ভেতরের মানবিক মূল্যবোধ ও ঈশ্বরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস অরণ্য সমাজের এক অনন্য দিককে উন্মোচিত করে।

প্রাচীন ঐতিহ্য, রাজপরিবার ও আদিবাসী সংস্কৃতি

উপন্যাসে প্রাচীন সাঁওতাল রাজবংশের অবক্ষয়ের মাধ্যমে অরণ্যবাসীদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। একদা বিস্তৃত জঙ্গলমহলের একচ্ছত্র অধিপতি সাঁওতাল রাজা দোবরু পান্না ও তাঁর নাতনি রাজকুমারী ভানুমতী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করেও তাঁদের রাজকীয় আতিথেয়তা ও আত্মমর্যাদা ধরে রেখেছেন। ভানুমতী অরণ্যের আদিম সৌন্দর্য ও নিষ্পাপ চঞ্চলতার জীবন্ত রূপ। প্রথাগত শিক্ষা বা নাগরিক কায়দাকানুন না জানা সত্ত্বেও তাদের আচরণে ফুটে ওঠে অনাবিল আন্তরিকতা। ভানুমতীর সহজাত ও খাঁটি আতিথেয়তার প্রসঙ্গে লেখক মন্তব্য করেছেন:

" এ-দেশের প্রান্তর যেমন উদার, অরণ্যানী, মেঘমালা, শৈলশ্রেণী যেমন মুক্ত ও দূরচ্ছন্দা-ভানুমতীর ব্যবহার তেমনি সঙ্কোচহীন, সরল, বাধাহীন। "

প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ কীভাবে মানুষের মনকে উদার ও কৃত্রিমতাহীন করে তোলে, ভানুমতীর চরিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রকৃতির মুক্ত আবহাওয়াই অরণ্যের মানুষকে সরল ও অনাবিল ভালোবাসার শিক্ষায় দীক্ষিত করে।

সভ্যতার আগ্রাসন ও অরণ্যবিনাশের ট্র্যাজেডি

‘আরণ্যক’ উপন্যাসের শেষ পরিণতি অত্যন্ত করুণ ও ট্র্যাজিক। জমিদারি এস্টেটের ম্যানেজার হিসেবে সত্যচরণকে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রয়োজনে হাজার হাজার বিঘা কুমারী অরণ্য কেটে চাষের জমি বানাতে হয়। এর ফলে অরণ্যের আদিম সৌন্দর্য যেমন ধ্বংস হয়, তেমনি অরণ্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা হাজার হাজার প্রজা ও যাযাবর মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাদের সুপ্রাচীন জীবিকা ও শান্তির আশ্রয় হারিয়ে যায় সভ্যতার হিংস্র থাবায়। জঙ্গল কাটার সময় অরণ্যের বিনাশ দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করে কথক বলেছেন:

“আমি প্রজা বসাইবার ভার লইয়া এখানে আসিয়াছিলাম- এই অরণ্যপ্রকৃতিকে ধ্বংস করিতে আসিয়া এই অপূর্বসুন্দরী বন্য নায়িকার প্রেমে পড়িয়া গিয়াছি। এখন আমি ক্রমশ সে-দিন পিছাইয়া দিতেছি। যখন ঘোড়ায় চড়িয়া ছায়াগহন বৈকালে কিংবা মুক্তাশুভ্র জ্যোৎস্নারাত্রে একা বাহির হই, তখন চারিদিকে চাহিয়া মনে মনে ভাবি, আমার হাতেই ইহা নষ্ট হইবে?

সদর আপিস হইতে মাঝে মাঝে চিঠি আসিতেছে সরস্বতী কুণ্ডীর জমি আমি কেন বিলি করিতে বিলম্ব করিতেছি। নানা ওজর-আপত্তি তুলিয়া এখনো পর্যন্ত রাখিয়াছি বটে, কিন্তু বেশি দিন পারিব না। মানুষের লোভ বড় বেশি, দুটি ভুট্টার ছড়া আর চীনাঘাসের এককাঠা দানার জন্য প্রকৃতির অমন স্বপ্নকে ধ্বংস করিতে তাহাদের কিছুমাত্র বাধিবে না..।“

উপসংহার

সমগ্র আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে ফুটে ওঠা অরণ্যবাসীর জীবনচিত্র কোনো কাল্পনিক রূপকথা নয়; এটি ক্ষুধা, অনাহার, রোগ-ব্যাধি, কুসংস্কার ও সামাজিক শোষণে জর্জরিত এক বাস্তব জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অরণ্যের মানুষেরা যেভাবে প্রকৃতির বুকে প্রেম, আনন্দ, সততা ও আত্মিক শান্তি খুঁজে নিয়েছে—তা পাঠকহৃদয়ে গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী লেখনী ও গভীর মানবতাবোধের গুণে 'আরণ্যক'-এর এই অরণ্যবাসীদের জীবনগাথা বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এক অমলিন ও অনন্য সম্পদ হিসেবে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবে।

S M A Hanif
BA (Hon's), MA
Bengali Language and Literature

No comments

"আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখে জানান। আপনার যেকোনো পরামর্শ সাদরে গৃহীত।"

Theme images by Maliketh. Powered by Blogger.