বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ উপন্যাসে প্রতিফলিত বাংলার গ্রামীণ সমাজচিত্র
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ উপন্যাসে প্রতিফলিত বাংলার গ্রামীণ সমাজচিত্র
বাংলা সাহিত্যাকাশের রূপময় প্রকৃতি ও মানবজীবনের এক অনন্য ও সংবেদনশীল চিত্রশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০)। তিনি তাঁর প্রানবন্ত ও মানবিক লেখনীর মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলার মাটি, সবুজ অরণ্য, সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সুখ-দুঃখ এবং প্রকৃতির গভীর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধকে চিরন্তন রূপ দিয়েছেন। তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকৃতির মধ্যে ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’ ও ‘আরণ্যক’ অন্যতম। ১৯৫১ সালে মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক-ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘ইছামতী’ (১৯৫০)। এই উপন্যাসে ১৯ শতকের প্রথমার্ধে নদীমাতৃক বাংলার নিভৃত এক জনপদের পটভূমিতে গ্রামীণ সমাজের সামাজিক গঠন, নীলকর সাহেবদের অমানুষিক অত্যাচার, সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা, বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান এবং আবহমান লোকায়ত জীবনযাত্রার এক পরম রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নদীমাতৃক জনপদ ও প্রকৃতির সাথে মানুষের সংরাগ:
‘ইছামতী’ উপন্যাসের সামাজিক ক্যানভাসের কেন্দ্রে রয়েছে ইছামতী নদী। এটি কেবল কোনো প্রাকৃতিক জলধারা নয়, বরং গ্রামীণ সমাজজীবনের আত্মাস্বরূপ। নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে মোল্লাহাটি, পঞ্চপোতা, কুটিরপাড়া ও ধোবাপাড়ার মতো গ্রামগুলো। গ্রামীণ মানুষের প্রাত্যহিক কাজকর্ম, কৃষিকাজ, স্নান-আহার, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আনন্দের মুহূর্তগুলো ইছামতীর ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে সহজ-সরল জীবনের যে চিত্র ফুটে ওঠে, তা রূপায়ণে লেখক শুরুতেই নদীটির রূপ বর্ণনা করেছেন:
"ইছামতী একটি ছোট নদী। অন্তত যশোর জেলার মধ্য দিয়ে এর যে অংশ প্রবাহিত, সেটুকু। ... ইছামতীর যে অংশ নদীয়া ও যশোর জেলার মধ্যে অবস্থিত, অংশটুকুর রূপ সত্যিই এত চমৎকার, যারা দেখবার সুযোগ পেয়েছেন তারা জানেন।"
উপন্যাসটির গ্রামীণ সমাজজীবন প্রকৃতি ও নদীর সাথে অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। ইছামতীর দুই তীরের ঘন গাছপালা, বনফুলের সুবাস এবং শান্ত জলধারা গ্রামের মানুষের মানসিক প্রশান্তি জুগিয়েছে। নদীর কোল ঘেঁষেই গ্রামীণ জনপদের মানুষ তাদের সুখ ও দুঃখকে সামলিয়ে জীবনসংগ্রামে টিকে থাকে।
নীলকর শোষণ ও বিষাদগ্রস্ত অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন:
উপন্যাসের সামাজিক পটভূমির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও করুণ দিক হলো ব্রিটিশ আমলে পঁচিশ-ত্রিশের দশকে নীল চাষকে কেন্দ্র করে নীলকর সাহেবদের (যেমন: শিপটন, ইনিস, ডেভিড) অন্যায় ও অমানুষিক শোষণ। নীলকুঠির দেওয়ান রাজারাম রায় এবং আমিন প্রসন্ন চক্রবর্তীর মতো দেশীয় তোষামোদকারীদের সাহায্যে কীভাবে সাধারণ চাষী ও প্রজাদের জমি দখল করা হতো, তাদের ওপর ‘শ্যামচাঁদ’ চাবুক চালানো হতো—তার এক বাস্তব দলিল এই উপন্যাস। শোষিত ও অবহেলিত কৃষককুলের এই ইতিহাসকে লেখক উচ্চ সামাজিক ইতিহাসের চেয়েও সত্য বলে চিহ্নিত করেছেন:
"সেইসব বাণী, সেইসব ইতিহাস আমাদের আসল জাতীয় ইতিহাস। মূক-জনগণের ইতিহাস, রাজা-রাজড়াদের বিজয়কাহিনী নয়।"
উক্তিটির মাধ্যমে বিভূতিভূষণ প্রথাগত রাজরাজড়াদের যুদ্ধের ইতিহাসের চেয়ে সাধারণ কৃষক ও নিম্নবর্গের মানুষের কষ্টময় জীবনগাথাকে আসল জাতীয় ইতিহাস বলে গণ্য করেছেন। নীলকুঠির দাদন, জোরপূর্বক চাষীদের উর্বর জমিতে নীল বোনা এবং কুঠির পাইক-লাঠিয়ালদের অমানুষিক অত্যাচার গ্রামীণ অর্থনীতির স্বাভাবিক বিকাশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। নবু গাজির মতো প্রতিবাদী প্রজা কিংবা রামকানাইয়ের মতো নিরীহ মানুষ—সবাইকেই কুঠির এই শোষণযন্ত্রের মুখে পড়ে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে।
কুঠির অত্যাচার ও অত্যাচারিত সাধারণ মানুষের আর্তনাদ:
কুঠিয়ালদের ক্ষমতা ও চাবুকের ভয়ে কাঁপতো পুরো পঞ্চপোতা ও মোল্লাহাটি অঞ্চল। রামকানাই কবিরাজ কিংবা রামু সরদারের মতো মানুষদের ওপর যখন অন্যায় নেমে আসতো, তখন তাদের করুণ আকুতি গ্রামীণ মানুষের চরম অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলতো। লাঠিয়ালদের নির্মম আঘাতের মুখে সাধারণ মানুষের এই প্রাণভয়ের চিত্র ধরা পড়ে নিচের উদ্ধৃতিটিতে:
"আমারে মেরো না বাবা। আমার বাত শ্লেষ্মার অসুখ আছে, আমি তাহলি মরে যাবো।"
এই পংক্তিটি তৎকালীন ঔপনিবেশিক বাংলায় শোষিত গ্রামবাসীর নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থার এক চরম প্রতিচ্ছবি। নীলকরদের পোষা লাঠিয়াল ও দেওয়ানদের হিংস্রতার সামনে বৃদ্ধ ও দুর্বল গ্রামবাসীদের করুণ আকুতিও কোনো দয়া পেত না। গ্রামীণ সমাজের বুকে ভয় ও শঙ্কার যে মেঘ জমে ছিল, তা উপন্যাসের প্রতিটি সামাজিক স্তরে দৃশ্যমান।
শ্রেণিভেদ, বর্ণপ্রথা ও সামাজিক বৈষম্য:
উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ সমাজ ছিল কঠোর বর্ণপ্রথা, সামাজিক উঁচু-নিচু ভেদাভেদ এবং আভিজাত্যের অহংকারে বিভক্ত। কুলীন ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও সামন্তরা সমাজের ওপরের তলায় অবস্থান করতো, অন্যদিকে বাগদি, মুচি, জোলা ও তাঁতিদের মতো নিম্নবর্ণের মানুষেরা বাস করতো সমাজের একদম প্রান্তিকে। এমনকি ব্রাহ্মণদের মধ্যেও ধানের মরাই বা সম্পদের অহংকার কতটা প্রবল ছিল, তা প্রসন্ন চক্রবর্তীর ভাবনায় ফুটে ওঠে:
"পয়সার জন্য এতো? ধানের মরাইয়ের অহঙ্কার এতো? সনাতন চৌধুরীরই বা কটা ধানের গোলা। যদি পুরুষমানুষ হয় প্রসন্ন চক্কত্তি, যদি সে রতন চক্কত্তির ছেলে হয়–তবে ধানের মরাই কাকে বলে দেখিয়ে দেবে–ওই অন্নপূর্ণাকে দেখাবে একদিন।"
এই উক্তিটি গ্রামীণ সমাজের অভ্যন্তরীণ সামাজিক প্রতিযোগিতা, ধান-সম্পদের প্রারম্ভিক অহংকার এবং অর্থনৈতিক শ্রেণিচেতনাকে প্রকাশ করে। গ্রামে যার ধানের গোলা বা সম্পদ বেশি, সেই সমাজের মাথা বা মাতব্বর হিসেবে মর্যাদা পেত। বর্ণাশ্রমের পাশাপাশি সম্পদের এই বৈষম্য সামাজিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রায়শই বাধা তৈরি করতো।
পরিবর্তনশীল সামাজিক রূপান্তর ও নবউদীয়মান বণিক শ্রেণি:
উপন্যাসে যেমন পুরাতন সামন্ততন্ত্র ও নীলকুঠির পতন দেখানো হয়েছে, তেমনি নালু পাল ও সতীশ কলুর মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা নতুন ব্যবসায়ী ও মহাজন শ্রেণীর বিকাশও লক্ষ্য করা যায়। একসময় যে নালু পাল মাথায় করে পান-সুপারি বেচতো, ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও মেহনতের জোরে সে হাটের বড় আড়তদার ও সম্পদশালী গৃহস্থে পরিণত হয়। পুরোনো অভিজাতরা যখন ক্ষীয়মাণ, তখন নালু পালের মতো উদীয়মান বণিকরা গ্রামে ব্রাহ্মণভোজন করিয়ে নতুন সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এটি ১৮ শতক ও ১৯ শতকের মধ্যবর্তী সামাজিক রূপান্তরের এক জীবন্ত উদাহরণ।
গ্রামীণ নারীসমাজ, প্রথা ও লোকায়ত সংস্কৃতি:
‘ইছামতী’ উপন্যাসে গ্রামীণ নারীসমাজের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, বহুবিবাহ, ছোট বয়সে বিয়ে এবং কুলীন ব্রাহ্মণ প্রথার যাঁতাকলে নারীদের বন্দি জীবন দেখা যায় ভবানীর তিন স্ত্রী—তিলু, বিলু ও নিলুর যৌথ জীবনের মাধ্যমে। তা সত্ত্বেও গ্রামীণ নারীদের নিজস্ব একটি লোকায়ত জগত ছিল। ইছামতীর ঘাটে জল ভরতে যাওয়া, পারস্পরিক সম্পর্ক, ছড়া কাটা, ব্রত পালন এবং ‘তেরের পালুনি’র মতো যৌথ বনভোজনের উৎসবে নারীরা নিজেদের মানসিক মুক্তি খুঁজে পেত:
"ভাদ্র মাসের তেরোই আজ। ইছামতীর ধারে তেরের পালুনি করবার জন্যে পাঁচপোতা গ্রামের বৌ-ঝিরা সব জড়ো হয়েচে। নালু পালের স্ত্রী তুলসীকে সবাই খুব খাতির করছে, কারণ তার স্বামী অবস্থাপন্ন।"
এই অংশটি থেকে স্পষ্ট হয় যে, গ্রামীণ সমাজে লোকোৎসব ও যৌথ আচার-অনুষ্ঠানগুলো নারীদের মেলবন্ধনের বড় মাধ্যম ছিল। তবে একই সাথে এখানে নালু পালের স্ত্রী তুলসীকে বেশি খাতির করার ঘটনাটি ইঙ্গিত করে যে, গ্রামীণ নারীসমাজও ধীরে ধীরে অর্থের প্রভাব ও সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছিল।
মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় সহাবস্থান ও নৈতিকতা:
কঠোর বৈষম্য ও শোষণের মাঝেও গ্রামীণ জীবনের এক গভীর মানবিক ও নৈতিক রূপ উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে। রামকানাই কবিরাজের নিঃস্বার্থ পল্লীসেবা এবং সত্যবাদিতা এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। কুঠির দেওয়ান রাজারাম রায়ের ভয় ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার প্রলোভনকে তিনি নীতি ও সত্যের খাতিরে প্রত্যাখান করেন:
"দেওয়ানমশাই, আমি বড় গরিব। আমারে মুশকিলে ফ্যালবেন না। আদালতে দাঁড়িয়ে হলপ করে তবে সাক্ষী দিতি হয় শুনিচি। আজ্ঞে, আমি সেখানে মিথ্যে কথা বলতি পারবো না। আমায় মাপ করুন দেওয়ানমশাই, আমার বাবা ত্রিসন্ধ্যা না করে জল খেতেন না; কখনো মিথ্যে বলতি শুনি নি। কেউ তাঁর মুখে। "
রামকানাইয়ের এই দৃঢ় উক্তিটি তৎকালীন গ্রামীণ সমাজে অবক্ষয়ের মাঝেও নৈতিক আদর্শ ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরে। একই সাথে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহাবস্থান, নবু গাজি ও রামকানাইয়ের সোহার্দ্য এবং ভবানীর উদার বৈদান্তিক জীবন দর্শন প্রমাণ করে যে, গ্রামীণ বাংলার গভীরে এক অবিচ্ছেদ্য অসাম্প্রদায়িক মানবিক বোধ প্রবহমান ছিল।
মহাকালের প্রবাহ ও সমাজের অবিনাশী পথচলা:
সময়ের সাথে সাথে নীলকুঠির রাজত্ব শেষ হয়, নীলকর সাহেবরা বিদায় নেয়, পুরানো অত্যাচারী দেওয়ানরা ধুলোয় মিশে যায় এবং নতুন প্রজন্মে নতুন জীবনের সূচনা ঘটে। কিন্তু গ্রাম, ইছামতী নদী ও আবহমান মানুষের জীবনপ্রবাহ থামে না। নদী যেমন সমস্ত ঘটনাকে বুকে ধারণ করে অবশেষে সাগরের দিকে ছুটে চলে, তেমনি গ্রামীণ সমাজও সমস্ত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে টিকে থাকে। উপন্যাসের শেষভাগে এই গভীর সমাজদর্শনের প্রকাশ ঘটে:
"ওদের সকলের সামনে দিয়ে ইছামতীর জলধারা চঞ্চলবেগে বয়ে চলেচে বড় লোনা গাঙের দিকে, সেখান থেকে মোহানা পেরিয়ে, রায়মঙ্গল পেরিয়ে, গঙ্গাসাগর পেরিয়ে মহাসমুদ্রের দিকে।…"
এটি কেবল নদীর গতিপথের বর্ণনা নয়, এটি মানুষের সভ্যতা ও গ্রামীণ সমাজের নিরন্তর রূপান্তরের প্রতীক। নীলকুঠির ধ্বংসাবসান, পুরানো অভিজাতদের পতন কিংবা নতুন অর্থনৈতিক শক্তির বিকাশ—সবকিছুকেই ইছামতী নদী তার চঞ্চল প্রবাহে ধুয়ে-মুছে অসীমের বুকে বিলীন করে দেয়, রেখে যায় কেবল চিরন্তন মানব সমাজকে।
পরিশেষে বলা যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ উপন্যাসটি ১৯ শতকের বাংলার গ্রামীণ জীবনের এক প্রামাণ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা। নীলকরদের নির্মম অত্যাচার থেকে শুরু করে গ্রামীণ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, জাতপাতের জটিল বিন্যাস, উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ এবং অকৃত্রিম লোকসংস্কৃতি—সবকিছুই এতে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে প্রতিফলিত হয়েছে। সহজ-সরল ও রসাল ভাষার মোড়কে প্রামাণ্য সমাজচিত্রকে সাহিত্যিক রূপ দিতে গিয়ে লেখক প্রমাণ করেছেন যে, বৈষম্য ও শোষণের মেঘ যতই ঘন হোক না কেন, নদীমাতৃক বাংলার সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আশাবাদ কখনো মুছে যায় না। এ কারণেই ‘ইছামতী’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গ্রামীণ সমাজচিত্র প্রতিফলনের এক অনুপম ও চিরভাস্বর নিদর্শন।

No comments
"আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখে জানান। আপনার যেকোনো পরামর্শ সাদরে গৃহীত।"