ads

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদের ব্যক্তি অহম ও অস্থির চেতনা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদের ব্যক্তি অহম ও অস্থির চেতনা

বাংলা কথাসাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক ও অস্তিত্ববাদী ধারার অন্যতম প্রধান রূপকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)। পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করলেও সাহিত্যসাধনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন ও নিপুণ শিল্পী। তিনি গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় ভণ্ডামি, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সংকট এবং অস্তিত্বের লড়াইকে অসাধারণ গভীরতায় তুলে ধরেছেন। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস 'লালসালু' (১৯৪৮) বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে কোনো কৃত্রিম আবেগ বা রোমান্টিকতার স্থান নেই; বরং উন্মোচিত হয়েছে শোষক শ্রেণীর চতুরতা এবং শোষিত মানুষের অন্ধ বিশ্বাসের এক করুণ আলেখ্য। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ কেবল একজন সাধারণ শোষক বা ধর্মব্যবসায়ী নয়, সে এক অত্যন্ত জটিল মানসিক বিন্যাসের মানুষ। তার ভেতরে কাজ করেছে এক প্রকাণ্ড ব্যক্তি অহম এবং একই সাথে এক নিরন্তর অস্থির চেতনা। অনাহার ও চরম দারিদ্র্যের অতীত থেকে উঠে আসা মজিদ নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে কীভাবে প্রতারণা ও ভণ্ডামির ওপর তার ক্ষমতার প্রাসাদ গড়ে তোলে এবং সেই অর্জিত ক্ষমতা হারানোর ভয়ে কীভাবে ভেতরে ভেতরে তিল তিল করে পুড়ে মরে—উপন্যাসে মজিদের এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই চমৎকারভাবে চিত্রিত হয়েছে।

 ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মজিদের ব্যক্তি অহমের উৎস

মজিদের ব্যক্তি অহম বা অহংকার কোনো বংশগত আভিজাত্য থেকে আসেনি, বরং এর পেছনে রয়েছে চরম দারিদ্র্য ও অনাহারের গভীর অতীত ভীতি। শস্যহীন, অনূর্বর ভূখণ্ডের ক্ষুধা থেকে বাঁচতে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করেছিল। অস্তিত্ব রক্ষার প্রাথমিক তাগিদ থেকেই সে একটি পুরোনো পরিত্যক্ত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার বলে ঘোষণা করে। মাজারের খাদেম হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে সে গ্রামের মানুষের ওপর ধর্মীয় প্রভাব ফেলে। কিন্তু একবার যখন সে সচ্ছলতা ও ক্ষমতার মুখ দেখে, তখন তার মধ্যে জন্ম নেয় এক তীব্র অহমিকা। সে নিজের অতীত দারিদ্র্যের কথা ভুলে গিয়ে নিজেকে গ্রামের একমাত্র ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ন্ত্রক ভাবতে শুরু করে। মজিদের এই বেঁচে থাকার তাগিদ ও নিজস্ব অহমের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি সম্পর্কে লেখক লিখেছেন:

 "…খোদার বান্দা সে নির্বোধ ও জীবনের জন্য অন্ধ।"

এই উক্তিটি মজিদের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মজিদ নিজেকে খোদার বান্দা হিসেবে দাবি করলেও মূলত সে নিজের স্বার্থ ও জীবনের তাগিদে অন্ধ হয়ে পড়েছিল। তার এই অন্ধত্বই তাকে মিথ্যা মাজার প্রতিষ্ঠার সাহস দেয়। অতীত দারিদ্র্যের গ্লানি ভুলে গিয়ে সমাজে একাধিপত্য বিস্তার করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য, যা পরবর্তীতে তার একচ্ছত্র ব্যক্তি অহমে পরিণত হয়।

অলৌকিকত্বের আরোপ ও কৃত্রিম ধর্মীয় ক্ষমতার অহংকার

মহব্বতনগর গ্রামে নিজের ভিত্তি শক্ত করার জন্য মজিদ প্রথম থেকেই গ্রামবাসীকে অপরাধবোধে আচ্ছন্ন করার কৌশল অবলম্বন করে। সে নিজেকে পীরের মাজারের একমাত্র সেবক হিসেবে উপস্থাপন করে এক অলৌকিক বলয় তৈরি করে। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে সে নিজের ব্যক্তিত্বকে অতিপ্রাকৃতিক মর্যাদায় উন্নীত করে। মজিদের অহমিকা কেবল অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সে চেয়েছিল পুরো গ্রামের মানুষের চিন্তা ও বিবেককে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। গ্রামবাসীকে প্রথম দিনই ভর্ৎসনা করে সে বলেছিল:

"আপনারা জাহেল, বেএলেম, আনপাড়হ।"

এই বাক্যটি মজিদের ব্যক্তি অহম প্রকাশের একটি নগ্ন উদাহরণ। সে শুরুতেই গ্রামবাসীকে অজ্ঞ ও পাপী হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেকে এক পরম ধর্মীয় জ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই অহংকারী আচরণের মাধ্যমেই সে গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারী থেকে শুরু করে সাধারণ কৃষক পর্যন্ত সবার মনে এক ধরণের মানসিক দাসত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়। সে বুঝেছিল, গ্রামবাসীকে ছোট ও অপরাধী প্রমাণ করতে পারলেই তার নিজস্ব কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে অস্তিত্বের সংকট ও অস্থির চেতনা

মজিদ বাইরে থেকে যতটাই শান্ত, দৃঢ় ও আপসহীন মনে হোক না কেন, ভেতরের দিক থেকে সে ছিল অত্যন্ত অস্থির ও শঙ্কিত এক মানুষ। কারণ সে মনে মনে খুব ভালো করেই জানত যে, তার ক্ষমতার ভিত্তিটি দাঁড়িয়ে আছে এক চরম মিথ্যার ওপর। ফলে যখনই তার সাম্রাজ্যে সামান্যতম আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই তার ছদ্মবেশী স্থিরতা ভেঙে গিয়ে অস্থির চেতনা প্রকট হয়ে উঠেছে। আউয়ালপুর গ্রামে যখন এক শক্তিশালী পীরের আগমন ঘটে এবং মহব্বতনগরের মানুষ সেই পীরের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, তখন মজিদের ভেতরের শঙ্কা ও হিংসা তীব্র হয়ে ওঠে। পীর সাহেব নাকি মরা মানুষকে জ্যান্ত করতে পারেন—স্ত্রীর মুখে এই কথা শুনে মজিদের মনে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়, তা প্রকাশ পায় তার কটূক্তিতে:

"মরা মানুষ জিন্দা হয় ক্যামনে?"

এই উক্তিটি মজিদের চরম দোলাচল ও অস্থির চেতনার পরিচয় বহন করে। বাইরে সে ধর্মভিত্তিক অলৌকিক ক্ষমতার দাবিদার হলেও অন্তরে সে সম্পূর্ণ বস্তুবাদী ও অবিশ্বাসী। সে জানে অলৌকিকত্ব বলতে কিছু নেই। তাই অন্য পীরের অলৌকিকতার কথা শুনে সে তা বিশ্বাস করে না, বরং নিজের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অন্য এক প্রতারকের আগমনে তার নিজের প্রতারণা ফাঁস হয়ে যাওয়ার যে ভয়, তা-ই তাকে অস্থির করে তোলে।

আধুনিক শিক্ষার বিস্তার ও অহম রক্ষার চতুর ষড়যন্ত্র

মজিদের অস্থির চেতনার আরেকটি বড় প্রকাশ দেখা যায় যখন গ্রামের শিক্ষিত যুবক আক্কাছ মহব্বতনগর গ্রামে একটি স্কুল বা পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। মজিদ উপলব্ধি করে যে, শিক্ষার আলো গ্রামে প্রবেশ করলে মানুষের অন্ধবিশ্বাস কেটে যাবে এবং তার মিথ্যা মাজারের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আক্কাছের এই উদ্যোগ মজিদের ব্যক্তি অহম ও ক্ষমতার মূলে সরাসরি আঘাত হানে। বিচার মজলিসে মজিদ অত্যন্ত চতুরতার সাথে মূল আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। স্কুলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা না করে সে আক্কাছের ধর্মীয় রীতিনীতি না মানার বিষয়টি তুলে ধরে জনসম্মুখে তাকে অপমানিত করে। সে হঠাৎ প্রশ্ন তোলে:

"তোমার দাড়ি কই মিঞা?"

মজিদের এই বাক্যটি তার ধূর্ত মনস্তত্ত্ব এবং অহম রক্ষার কৌশলকে স্পষ্ট করে। যুক্তির মুখোমুখি না হয়ে সে ধর্মীয় গোঁড়ামিকে হাতিয়ার করে আক্কাছকে সমাজচ্যুত ও কোণঠাসা করে দেয়। মজিদের ভেতরে সর্বদা এই ভয় কাজ করত যে, যেকোনো সচেতন বা আধুনিক চিন্তা তার রাজত্বকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই ভয় থেকেই সে গ্রামের সব ধরণের প্রগতিশীল উদ্যোগকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করত।

শাসনের চরম রূপ ও নিদারুণ নিষ্ঠুরতা

মজিদের ব্যক্তি অহম কতটা অন্ধ ও নিষ্ঠুর হতে পারে, তার প্রমাণ মেলে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির ক্ষেত্রে। সন্তান আকাঙ্খায় আমেনা বিবি যখন আউয়ালপুরের পীরের পানিপড়া খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তখন মজিদ তা নিজের ক্ষমতার প্রতি চরম অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য করে। তার বানানো মাজারের অলৌকিক ক্ষমতার বাইরে অন্য কারো কাছে হাত পাতা মজিদের অহমে চরম আঘাত করে। ফলে সে চতুর কৌশলে আমেনা বিবিকে মাজার প্রদক্ষিণ করানোর নাটক সাজায় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করে খালেক ব্যাপারীকে দিয়ে তালাক দেওয়াতে বাধ্য করে। মজিদের এই নির্দয় সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ পায় তার স্পষ্ট নির্দেশে:

"তানারে তালাক দেন।"

আমেনা বিবির কোনো প্রকৃত অপরাধ ছিল না; তার একমাত্র অপরাধ ছিল সে মজিদের কর্তৃত্বের বাইরে অন্য কারো ওপর আস্থা রেখেছিল। মজিদ নিজের প্রভাব ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে কতদূর নির্মম হতে পারে, ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনকে এক নিমেষে ধ্বংস করে দেওয়ার এই ঘটনা তা শতভাগ প্রমাণ করে। এটি ছিল তার ব্যক্তি অহমের এক চরম ও ভয়াবহ বহিপ্রকাশ।

জমিলার আগমন ও মজিদের অহমের পরাজয়

উপন্যাসের দ্বিতীয়ার্ধে কিশোরী জমিলাকে বিয়ে করার পর মজিদের ব্যক্তি অহম ও অস্থির চেতনা এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি হয়। মজিদ ভেবেছিল অবাধ্য গ্রামবাসীকে যেভাবে ভয় দেখিয়ে বশ করা গেছে, তেমনি এক কিশোরী বধূকেও নিজের শাসনের অধীনে রাখা যাবে। কিন্তু চপল, প্রাণবন্ত ও সহজ-সরল জমিলা মজিদের কৃত্রিম ধর্মীয় ভীতি ও মাজারের অন্ধ বলয়কে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। জমিলার স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস ও হাসি মজিদের অচল আয়তনকে নাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত মজিদ যখন জমিলাকে মাজারের ঘরে খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে চায়, তখন জমিলা চরম ঘৃণাভরে মজিদের মুখে থুথু ছিটিয়ে দেয়। স্তম্ভিত মজিদ রহীমার কাছে এসে স্বগতস্বরে বলে:

" হে আমার মুখে থুথু দিলো!"

জমিলার এই থুথু নিক্ষেপ মজিদের ফোলা ব্যক্তি অহমের ওপর এক মারাত্মক চাবুক। যে মজিদের সামনে পুরো গ্রাম ভয়ে কাঁপত, সেই মজিদের মুখে এক কিশোরী বধূর থুথু ফেলা তার আত্মমর্যাদাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। এই ঘটনার পর মজিদের ভেতরের অস্থিরতা ও মানসিক পতন চরম আকার ধারণ করে। সে বুঝতে পারে যে, ভয় দেখিয়ে শরীরকে বাঁধা গেলেও মানুষের সহজ প্রাণধর্ম ও মানবীয় চেতনাকে পুরোপুরি জয় করা যায় না।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অটল অহমিকার আড়ালে টিকে থাকার লড়াই

উপন্যাসের সমাপ্তিতে যখন প্রবল কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে মহব্বতনগর গ্রামের কৃষকদের একমাত্র সম্বল সোনার ধান নষ্ট হয়ে যায়, তখন চারদিকে নেমে আসে অনাহার ও হাহাকার। এই চরম সংকটের মুহূর্তে মজিদের মিথ্যা আস্ফালন ও ধর্মের বাণী কোনো কাজে আসে না। কৃষকদের করুণ কান্না ও হাহাকারের সামনে মজিদ তার ভণ্ডামির মুখোশ ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের এই ক্ষয়ক্ষতি ও অসহায়ত্ব দেখেও তার ব্যক্তি অহম তাকে নিজের ভুল স্বীকার করতে দেয় না। বরং সে মানুষকে সান্ত্বনার নামে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলে:

"–নাফরমানি করিও না। খোদার উপর তোয়াক্কল রাখো।"

সব হারিয়ে ফেলা নিঃস্ব কৃষকদের প্রতি মজিদের এই উপদেশ তার সংবেদনহীনতারই প্রমাণ। তবে এই আপাত কঠোরতার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে মজিদের গভীর অস্তিত্ব সংকট। সে জানে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে গ্রামবাসী যদি ভেঙে পড়ে বা বিদ্রোহ করে, তবে তার মাজারের অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। তাই সে যেকোনো মূল্যে তার শোষণের ভিত্তি লালসালুতে ঢাকা মাজারটিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়।

সামগ্রিক বিচারে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ চরিত্রটি কেবল একাই এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী নয়, বরং সে এক গভীরভাবে বিশ্লেষণযোগ্য মনস্তাত্ত্বিক সত্তা। তার ভেতরে প্রতিনিয়ত কাজ করেছে অতীতে হারিয়ে যাওয়া ক্ষুধা ও অনাহারের ভীতি, যা পরবর্তীতে এক দানবীয় ব্যক্তি অহমে রূপান্তরিত হয়েছিল। নিজের সামাজিক অবস্থান, ক্ষমতা ও সচ্ছলতাকে রক্ষা করার জন্য সে ধর্মের মিথ্যা আবরণ তৈরি করেছে, মানুষকে অন্ধবিশ্বাসের জালে বন্দী করেছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্মমভাবে ধ্বংস করেছে। কিন্তু এই বাহ্যিক নিষ্ঠুরতা ও ক্ষমতার দম্ভের পেছনে সর্বদা তাড়া করে ফিরেছে এক গভীর অস্থির চেতনা—ক্ষমতা হারানোর ভয়, প্রতারণা ধরা পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক এবং পরিশেষে জমিলার সহজ প্রাণধর্মের কাছে মানসিক পরাজয়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর অনন্য কথাসাহিত্যের জাদুস্পর্শে মজিদের এই ব্যক্তি অহম ও অস্থির চেতনার আড়ালে মানবীয় চরিত্রের চরম জটিলতা ও অন্ধ সমাজব্যবস্থার এক অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও চিরন্তন চিত্র একেছেন, যা বাংলা সাহিত্যে অতুলনীয়।

S M A Hanif
BA (Hon's), MA
Bengali Language and Literature

 

No comments

"আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখে জানান। আপনার যেকোনো পরামর্শ সাদরে গৃহীত।"

Theme images by Maliketh. Powered by Blogger.